কালো যাদু (সিহর) মানুষের শরীর, মন ও জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও একবার ইহুদিদের যাদুর কবলে পড়েছিলেন, এবং আল্লাহ তাকে কোরআনের মাধ্যমে মুক্তি দিয়েছিলেন।
কালো যাদুর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ আয়াতসমূহ:
সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস:
“বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের রবের কাছে… (সূরা ফালাক ও নাস)” (সূরা ফালাক ১-৫, সূরা নাস ১-৬)
সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াত:
“তারা এমন বিষয় শিখত, যা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করত… কিন্তু তারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না, যতক্ষণ না আল্লাহ অনুমতি দিতেন।” (সূরা বাকারা: ১০২)
আয়াতুল কুরসি:
“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি সমস্ত সৃষ্টির তত্ত্বাবধানকারী…” (সূরা বাকারা: ২৫৫)
পদ্ধতি:
- প্রতিদিন সকালে ও রাতে সূরা ফালাক, সূরা নাস ও আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।
- আক্রান্ত ব্যক্তির উপর এই আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দেওয়া বা পানি পড়ে পান করানো।
- সাতটি আজওয়া খেজুর খেলে যাদুর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। (সহীহ বুখারি: ৫৭৬৮, সহীহ মুসলিম: ২০৪৭)
বদনজর থেকে মুক্তি
বদনজর বাস্তব সত্য, যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন:
“বদনজর সত্য; যদি কিছুকে ভাগ্যের আগে ধ্বংস করার ক্ষমতা দেওয়া হতো, তবে তা বদনজর হতো।”
(সহীহ মুসলিম: ২১৮৮)
বদনজরের প্রতিকার:
সূরা ফালাক ও সূরা নাস: বদনজর থেকে রক্ষা পেতে দিনে তিনবার পড়া।
রাসূল (সা.)-এর দোয়া:
“আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।”
(সহীহ বুখারি: ৩৩৭১, সহীহ মুসলিম: ২১৮৬)
পদ্ধতি:
- নিয়মিত সকালে ও রাতে আয়াতুল কুরসি পড়া।
- আক্রান্ত ব্যক্তির উপর সূরা ফালাক, সূরা নাস ও আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দেওয়া।
- বদনজর লেগে গেলে, বদনজর দেওয়া ব্যক্তির উযুর পানি আক্রান্ত ব্যক্তির উপর ঢালা। (সহীহ মুসলিম: ২১৮৮)
জ্বীনের আসর থেকে মুক্তি
কখনও কখনও মানুষ জ্বীনের দ্বারা আক্রান্ত হয়, যা শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
হাদীস:
“নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্তনালীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।”
(সহীহ বুখারি: ২০৩৯, সহীহ মুসলিম: ২১৭৫)
জ্বীনের আসর থেকে মুক্তির কোরআনিক পদ্ধতি:
⦿ সূরা আল-বাকারা সম্পূর্ণ পাঠ করা (সহীহ মুসলিম: ৮০৪ )
⦿ সূরা আস-সাফফাত (১-১০ আয়াত), সূরা জিন, সূরা ইয়াসিন পাঠ করা।
⦿ দম করা পানি পান করা ও গোসল করা।
যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। (সহীহ মুসলিম: ৮০৪)
কোরআনিক শিফা কোনো ভ্রান্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং এটি আল্লাহর নির্দেশিত সত্যিকারের নিরাময়ের মাধ্যম। যারা কালো যাদু, বদনজর ও জ্বীনের সমস্যায় ভুগছেন, তারা কোরআনের নির্দেশিত আমলগুলোর মাধ্যমে নিরাপদ থাকতে পারেন।
কোনো শিরক, বিদআত বা তান্ত্রিক কার্যকলাপ ছাড়াই শুধুমাত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে এই চিকিৎসা করা হয়। তাই যারা এই সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজছেন, তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোরআনিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন এবং আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ।
“নিশ্চয়ই কোরআন মু’মিনদের জন্য শিফা ও রহমত।” (সূরা আল-ইসরা: ৮২)


